Health Tips

থাইরয়েড কি এবং কমানোর উপায় কি? থাইরয়েড রোগীর খাদ্য তালিকা কি?

থাইরয়েড কি এবং কমানোর উপায় – বর্তমানে অনেকেই থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগে থাকেন। কারো কারো ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা অতিমাত্রায় থাকে আবার কারো কারো ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম থাকে। চিকিৎসকরা বলে থাকেন থাইরয়েড মূলত দুই ধরনের। একটি হল হাইপোথাইররোডিজম এবং অন্যটি হলো হাইপারথাইরয়েডিজম। হাইপোথাইরেডিজম হলো থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কম হরমোন ক্ষরিত হয় আর হাইপার থাইরয়েডিজম এর সমস্যা হলে হরমোন বেশি পরিমাণে খরিত হয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন এই দুই ধরনের থাইরয়েড‌ই ক্ষতিকর।

থাইরয়েড রোগ কি?

থাইরয়েড এমন একটি রোগ যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে সঠিক পরিমাণে হরমোন তৈরি করা থেকে বিরত রাখে।থাইরয়েড হলো হরমোন তৈরি করে যা আপনার শরীরকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। যদি থাইরয়েড গ্রন্থিতে খুব বেশি থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন হয় তাহলে শারীরিক বিপাকীয় প্রক্রিয়া প্রভাবিত হবে। এই অবস্থায় শরীর খুব বেশি দ্রুত শক্তি ব্যবহার করবে। আর একে বলা হয় হাইপারথিইরয়েডিজম।

খুব দ্রুত শক্তি ব্যবহার করার ফলে হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হয়।

এছাড়াও হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যায় দ্রুত ওজন কমে যায় এবং নার্ভাস হয়ে পড়ে।আবার থাইভেট গ্রন্থি যখন খুব কম থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে তখন তাকে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম। এই অবস্থায় ওজন বেড়ে যায়, ঠান্ডা তাপমাত্রা সহ্য হয় না, ডিপ্রেশন ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো আরো অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়।

থাইরয়েড রোগীর খাদ্য তালিকা

বিশেষজ্ঞদের মতে থাইরয়েড রোগীর ওষুধ ছাড়া ঘরোয়া কিছু খাবারের মাধ্যমে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকায় যেই খাবার গুলো থাকা দরকার সেগুলো হলো:

 নারকেল

থাইরয়েড রোগীদের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম একটি সেরা খাবার হতে পারে ডাব অথবা নারকেল। নারকেল ধির এবং অলস বিপাকে উন্নত করতে সাহায্য করে। নারকেলের মধ্য রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এমসিএফএ এবং এমটিসি যা বিপাকে উন্নত করতে সহায়তা করে।

আমলকি

আমলকি রয়েছে অনেক গুনাগুন। আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি। এছাড়াও আমলকি রূপচর্চার জন্য একটি অন্যতম উপাদান। আমলকি থাইরয়েডের সমস্যা সমাধানে খুবই কার্যকারী।

ফলিক এসিড যুক্ত খাবার কোনগুলো, জেনে রাখা ভালো

কুমরোর বীজ

কুমড়োর বীজের মধ্যে রয়েছে জিংক উপাদান যা শরীরের অন্যান্য ভিটামিন এবং খনিজ গুলোকে শোষণ করতে সাহায্য করে এর সাথে শরীরের থাইরয়েডের হরমোন সংশ্লেষণ করে ভারসাম্যকে উন্নত করতেও সহায়তা করে।

আয়োডিন

থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিঃসরণ ও কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিন পুষ্টি উপাদান হলো আয়োডিন সেলিনিয়াম ও জিংক। শরীরের হরমোন তৈরির মূল কাঁচামাল হচ্ছে আয়োডিন। যার কারনে আয়োডিনের ঘাটতিতে মানুষ হাইপোথাইরয়েডিজমের ঝুঁকিতে থাকে।

সেলিনিয়াম

থাইরয়েডের সক্রিয়তায় সেলিনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরের কোষগুলো হরমোনকে কাজে লাগাতে পারে। তাছাড়া এর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতাও।

জিংক

যেসব খাদ্যে জিংক থাকে সেসব খাদ্য থাইরয়েড হরমোনকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এটি টিএসএইচ নামক হরমোন নিঃসরণ প্রভাবিত করে যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে করে জিংক এর অভাবে থাইরয়েড এর কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

খনিজ সমৃদ্ধ খাবার

কপার এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের থাইরয়েডের কার্যকারিতাকে ব্যাহত করতে সাহায্য করে। যেমন কাজুবাদাম সূর্যমুখী বীজ এবং সবুজ শাকসবজি।

ভিটামিন

খনিজ সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার থাইরয়েড রোগীদের জন্য উপকারী। পনির কাঁচামরিচ টমেটো পেঁয়াজ রসুন মাশরুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

যেসব খাবারের চর্বি বেশি সেসব খাবার থাইরয়েড রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কম চর্বিযুক্ত খাবার গুলো থাইরয়েড রোগীদের জন্য উপকারী।

থাইরয়েড রোগীদের কোন খাবার গুলো বাদ দিতে হবে?

কিছু কিছু খাদ্য উপাদান থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম কে ব্যাহত করতে সাহায্য করে। থাইরয়েড রোগীদের জন্য কিছু কিছু খাবার না খাওয়াই ভালো।

নিচের এই খাবারগুলোতে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়তে পারেঃ

যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, সয়া জাতীয় খাদ্য, মিষ্টি আলু, কাসাভা, স্ট্রবেরি, পিচফল, নাশপতি, চিনা বাদাম, পাউরুটি,

প্যাকেটজাত খাবার যা মূলত প্রসেস খাবার, পাস্তা, মিষ্টি জাতীয় খাবার, কফি, অ্যালকোহল, কোমল পানীয় ইত্যাদি।

থাইরয়েড হলে কি কি ফল খাওয়া উচিত?

থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য যেসব ফল খাওয়া উপকারী সেগুলো হচ্ছে;

*নাশপতি।

*আপেল।

*কমলালেবু।

*আঙ্গুর।

এই ফলগুলো যদি থাইরয়েড রোগীরা খায় তাহলে তাদের থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

থাইরয়েড এর মাত্রা কত?

সাধারণত রক্তের থাইরয়েড হরমোন এর স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে 0.4 থেকে 4.0 মিলিওনিটের মধ্য হওয়া উচিত। যদি এই স্তর গুলি এই সেবার বাইরে থাকে তাহলে এটি থাইরয়েড ডিসঅর্ড আর এর লক্ষণ হতে পারে। কাজেই এমত অবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সচরাচর প্রশ্ন ও উত্তর

থাইরয়েড কমানোর উপায় কি?

থাইরয়েডের সমস্যার কমাতে হলে যা করতে হবে তা হলো:

*আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম পনির লবণ ও দুধ খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।

*সেলিনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার টুনা, মুরগি, ওটমিল, বাদামী চাল,ডিম খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় কি?

থাইরোট কমাতে হলে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুগ্ধ দ্রব্য, তিলের বীজ, কমলা লেবুর রস এবং ডিমের কুসুম খেলে থাইরয়েডের সমস্যা কমে। এছাড়াও আদা থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। আদা চা খেলে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

থাইরয়েড হলে কোন ড্রাই ফ্রুট ভালো?

সেলিনিয়ামের অন্যান্য উৎস গুলির মধ্য বাদাম শুকনো কিউই, কিসমিস, শুকনো এপ্রিকট এবং শুকনো ক্যানবেরি এবং ব্লু বাড়ি অন্তর্ভুক্ত রাখতে পারেন। সাপ বাড়াতে এতে বাদাম যোগ করতে পারেন।এইসব শুকনো ফলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে।

পোস্ট ট্যাগ

থাইরয়েড কমানোর খাবার,থাইরয়েড নরমাল কত,থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকা,থাইরয়েড কমানোর ব্যায়াম,Tsh কমানোর উপায়,থাইরয়েড হলে কি কি ফল খাওয়া উচিত,থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যা হয়,থাইরয়েড কি খেলে ভালো হয়,থাইরয়েড কি এবং কমানোর উপায়,

New Mushroom Gummies For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *