Law

জমির ‌দলিলে নাম পরিবর্তন কিভাবে করতে হয়

জমির ‌দলিলে নাম পরিবর্তন –জমি হলো মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সম্পদ। আর এই জমি জমা অনেক লোকের মালিকানা থেমে থাকে। যার কারণে সম্পত্তির মালিকের অফিশিয়াল নাম পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে যে কোন সময়। জমির নিবন্ধন নথিতে নামের আপডেট করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

জমির দলিল রেজিস্ট্রিতে নাম পরিবর্তন করা বা আপডেট করা সম্পত্তির মালিক কে জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

আজকে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনে নাম পরিবর্তন নিয়ে আপনাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি সাথেই থাকবেন এবং পোস্টটি পড়ে উপকৃত হবেন।

জমি রেজিস্ট্রেশন

১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী কোন জমি বা ভূখণ্ড স্থানান্তর করতে হলে বাম মালিকানা পরিবর্তন করতে হলে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নির্ধারিত ফরমে ক্রেতা বিক্রেতার চাহিদা মাফিক তথ্যাবলি ও দলিলাদি উল্লেখ করে যে নিবন্ধন করা হয় এবং যাতে জমির পরিচিতি উল্লেখ থাকে যা দলিলে লিখা হয় এই ধরনের দলিল সাব রেজিস্ট্রেশন এর মাধ্যমে নিবন্ধিত করাকে রেজিস্ট্রি বলে।

জমির দলিল সংশোধন করার কারন

যে ক্ষেত্রে দলিলদাতা অথবা গ্রহীতা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যেতে পারেন না সে ক্ষেত্রে যে কোন পক্ষের চাহিদা মোতাবেক সাব রেজিস্টার কমিশনের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারেন।

অর্থাৎ ‌সরকারি তথ্য প্রমাণের মধ্য দিয়ে জমির মালিকানা হকের বিবরণ এবং মালিকানা হক হল জমি রেজিস্ট্রেশন।জমি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে জমি বিক্রেতার নাম থেকে জমি ক্রেতার নামে স্থানান্তর করা হয় আর সব জায়গাতেই একই ভাবে সাব রেজিস্টার অফিসের রেজিস্টারের সামনে উভয় পক্ষের সহমতে জমি জায়গা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।

জমি কেনার পর জমি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে হয় এই টোকেন দুইভাবে সংগ্রহ করা যায়।

১ সাব রেজিস্টার অফিসে  গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে।

২ নিজের জেলার কিংবা ব্লকের সাব রেজিস্টার অফিসের অনলাইন পোর্টালের নাম ঠিকানা দিয়ে।

জমি রেজিস্ট্রেশন করতে  যা যা লাগে

জমি রেজিস্ট্রি করতে বিকৃত জমির পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করতে হয়।

দলিলে দাতা গ্রহীতার পিতা মাতার নাম পূর্ণ ঠিকানা এবং সাম্প্রতিক ছবি সংযুক্ত করতে হয়।

জমির পর্চাগুলোতে সি এস এস আর এস মালিকানার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।

প্রয়োজনে বায়া দলিল সংযুক্ত করতে হবে।

জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

জমি দলের রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম গুলো হলো-

*জমি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য উভয়পক্ষকে দুইজন করে মোট চার জন সাক্ষী নিয়ে যেতে হবে।

*জমি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য নিয়মমাফিক জমির ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনকে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য সাব রেজিস্টার অফিসে যেতে হবে।

*যদি কোন কারণবশত জমি ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা নিজের জমি জায়গা রেজিস্ট্রি করার জন্য সাব রেজিস্টার অফিসে আসতে না পারে তাহলে যোগ্য কোন ব্যক্তিকে তার পাওয়ার অফ এটনি দিয়ে পাঠাতে হবে।রেজিস্টার অফিসে পাওয়ার অফ এটনির যাবতীয় তথ্য যথারীতি যাচাই করে দলিলে তার নাম উল্লেখ করতে হবে।

*জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া পুরো করার জন্য দলিলের সমস্ত জমি জমা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের সঠিকভাবে বয়ান মাফিক উল্লেখ করার জন্য একজন উকিল কিংবা মোহরী (দলিল লেখক) জোগাড় করতে হবে।

কোন কোন জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হয়

*বিক্রয় দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে।

*জমি ক্রয় করার আগে বায়না দলিল করলে ৩০ দিনের মধ্যে registration এর জন্য জমা দিতে হবে রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়না দলিলের আইনগত কোন মূল্য নেই।

*বায়না দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্য বিক্রয় দলের সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করতে হবে।

*হেবা বা দানকৃত সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে।

*বন্ধককৃত জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে।

*কোন জমির মালিকের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বটোয়ারা করা এবং ওই বটোয়ারা বা আপস বন্টনমালা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

কিভাবে জমির দলিলে নাম পরিবর্তন করা হয়

সম্পত্তির মালিকের সরকারি নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই নাম পরিবর্তনটি ভূমি নিবন্ধন নথিতে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তবে নাম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া প্রথমে শেষ করতে হবে।

জমির ‌দলিলে নাম পরিবর্তন ও হলফনামা জমা

হলফনামা হবে লিখিত। এতে হরফকারীর কোন নাম ঠিকানা সহ বাবা এবং মায়ের নাম জাতীয়তা বয়স পেশা প্রভৃতি উল্লেখ করতে হবে। এর সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার উল্লেখ করতে হবে।হলফকারী ব্যক্তি কি বিষয় হলো করেছে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে হবে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের নাম কি ছিল এবং বর্তমান নামে কি সংশোধন হয়েছে তা স্পষ্ট ভাবে বলতে হবে।

এর সঙ্গে কোন সনদপত্রের পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র হলফনামা সম্পাদনের পর থেকে কি নাম ব্যবহার করা হবে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে বলে দিতে হবে।নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অবশ্যই হরফ নামা করার পর দৈনিক পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। তবে হলফ নামা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করা যাবে না।অনেকের স্ত্রী তার স্বামীর টাইটেল বা নামের অংশ নিজের নামে সঙ্গে জুড়ে দিতে চান। এক্ষেত্রেও হলফ নামা বাধ্যতামূলক।

অবশ্যই ফলোফকারী কে হলফন আমার সঙ্গে পাসপোর্ট আকারে সত্যায়িত ছবি দিতে হবে। হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। হলফ নামের শেষের অংশে একজন আইনজীবী মাধ্যমে সনাক্ত করাতে হবে।

যেভাবে সম্পাদন করতে হবে

হলফনামা সম্পাদন করতে হয় ২০০ টাকার নন  জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। হলফনামাটি লেখার পর (কম্পোজ বা টাইপ) নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়ন করাতে হবে।নিয়ম অনুসারে যিনি হলফনামা ঠিক করলেন তিনি নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণীর বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তার হলফনামাটির সম্পর্কে সত্য পাঠ করবেন। তখন নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট হরফ নামাতে যাচাই-বাছাই করে ওর উপর স্বাক্ষর করে দিবেন। এবং একটি বিশেষ সরকারি সিল ব্যবহার করে এতে ক্রমিক নম্বর বসাবেন। হলফনামাটির একটি ফটোকপি তিনি রেখে দেবেন।

জমির ‌দলিলে নাম পরিবর্তন বা সম্পত্তির নথীতে নাম পরিবর্তন করার অন্যান্য প্রক্রিয়া

যেহেতু জায়গা জমি রেজিস্ট্রি পরিবর্তন একটি সহজ কিন্তু ক্লান্তিকর প্রক্রিয়া সম্পত্তির নদীতে নাম পরিবর্তন সম্পত্তির বিক্রয়ের দলিল সংশোধনের মাধ্যমে অর্জিত হয়।যাইহোক পূর্ববর্তী বিক্রয় দলিলের এই সংশোধন একতরফাভাবে করা যায় না এবং নতুন মালিককেই দলিলটি করতে সাহায্য করার জন্য পূর্ববর্তী মালিকের ইচ্ছার প্রয়োজন হয়।

বৈধ নাম পরিবর্তনের সফল যাচাই এর অপর নামটি ভূমি রেজিস্ট্রি রেকর্ডেও আপডেট করা হয়। জমি রেজিস্ট্রিতে নাম পরিবর্তন সম্পূর্ণ তা সম্পর্কে মালিকের ঠিকানায় নথি সরবরাহের সাথে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

নাম পরিবর্তনের হলফনামা করে দিলেই সব প্রতিষ্ঠানের দপ্তরে আপনার নাম পরিবর্তন হয়ে গেছে তা বলা যাবে না হলফনামাটি হচ্ছে আপনি যে নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করছেন তা ঘোষণা দেওয়া এবং পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তা জানান দেওয়া। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র কিছু নিয়মকানুন আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে হলফনামা দিয়ে নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

তবে আপনি সনদপত্র বাতিলের নাম পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দপ্তরে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের সঙ্গে আমার কপি সংযুক্ত করে নিতে হবে। তবে একবার হলফনামা করে নাম পরিবর্তন করলে পরবর্তী সময়ে আবারো নাম সংশোধনের হলফনামা করতে গেলে জটিলতা দেখা দিবে তাই হলফনামাটি করার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

জমি রেজিস্ট্রেশন করা কি জরুরী?

বাংলাদেশে অনেক মানুষই ভূমি আইন সম্পর্কে খুব বেশি অবগত নয়।ফলে তারা জমি নিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হন জমি রেজিস্ট্রেশন করা খুবই জরুরী।

জমি রেজিস্ট্রেশন করা কি বাধ্যতামূলক?

রেজিস্ট্রেশন আইন ২০০৪ সালের (সংশোধিত) অনুযায়ী সকল দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক আইন অনুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রি করা হলে মালিকানা নিয়ে বিরোধ হয় না।

দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য কি পরিমান খরচ হয়?

দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় রেজিস্ট্রেশন আইনস্টাম্প আইন আয়কর আইন অর্থ আইন ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিধি এবং পরিপত্রের আলোকে। সকল দলিলের রেজিস্ট্রি ফিস সমান নয়।সরকার বিভিন্ন সময় সমসাময়িক বিবেচনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রি ফিস নির্ধারণ করে থাকেন। 

জমি কেনার নিয়ম অনুযায়ী জমি জায়গার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় কিন্তু শুধুমাত্র রেজিস্টার অফিসে গিয়ে সেল ডিড প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত গভর্নমেন্টরেভিনিউ রেকর্ডে জমির মালিকানা হক পরিবর্তন না হয় ততদিন জমির মালিকানা হক জমির পুরনো মালিকের নামই থাকে।

তাই জমি রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পরে পরে ভুমিকল্যাণ অফিসে গিয়ে জমির রেকর্ড অথবা নামজারি করে নেবেন।

শেষ কথা

আশা করছি উপরের এই জমির দলিল নাম পরিবর্তন সম্পর্কিত পোস্ট থেকে আপনি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। এরপরেও আপনাদের যদি জমির দলিল সম্পর্কিত আরো কোন জিজ্ঞাসা থেকে থাকে তাহলে আপনারা পোষ্টের কমেন্টসে আমাদের জানিয়ে দিবেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত আপনাকে রিপ্লাই করার বা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

বিশেষ দ্রষ্টব্য -উপরের ইনফরমেশনগুলো সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট থেকে কালেক্ট করা। এজন্য কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে পরবর্তী পোস্ট পড়ার অনুরোধ রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *