Health Tipsলাইফস্টাইল

আপনার ঘামের দুর্গন্ধ অন্যের বিরক্তির কারণ হচ্ছে? মুক্তির উপায় কি?

আপনার ঘামের দুর্গন্ধ – সাধারনত আমরা পাবলিক পরিবহনে ভ্রমনের সময় অন্য মানুষের সংস্পর্শে বা খুব কাছাকাছি আসি। মেট্রোরেল এমন এক বাহন, যাতে দাঁড়িয়ে যেতেও তেমন কোনো সমস্যা হয় না। দুই সারিতে ঝোলানো রিং আকৃতির হাতল ধরে দাঁড়িয়ে অনায়াসেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। হাতল ধরার জন্য আপনাকে হাত ওঠাতেই হবে। কিন্তু মুশকিল হলো বগলে যদি হয় দুর্গন্ধ, তাহলে আশপাশে থাকা যাত্রীরা ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে যান।

আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময়ই ঘাম হয়, এটিই বাস্তবতা। তাই ঘাম ও দুর্গন্ধের ব্যাপারে একটু সচেতন থাকাটা আমাদের প্রত্যেকেরই নাগরিক দায়িত্ব। সে আপনি মেট্রোরেলেই থাকুন কিংবা রোজকার কাজের জায়গায়। সামাজিক পরিসরে ন্যূনতম এই সৌজন্যবোধ না থাকলে আপনি বাহ্যিকভাবে যতটাই ‘স্মার্ট’ হোন না কেন, সেই ‘স্মার্টনেস’ কিন্তু ধোপে টিকবে না।

হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিনকেয়ার ক্লিনিকের রূপবিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমীর কাছ থেকে জেনে নিই ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার সহজ কিছু পদ্ধতি।

‘স্মার্ট’ থাকার দারুণ উপায়

রোজ গোসলের পর খানিকটা ফিটকিরি ভিজিয়ে বগলে হালকাভাবে ঘষে নিতে হবে। এভাবে ডিওডোর‍্যান্ট–জাতীয় রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার ছাড়াই ঘামের দুর্গন্ধ এড়ানো যায়। নিয়মিত ব্যবহারে বগলের কালো দাগও চলে যায়। বগল ছাড়াও শরীরের যেসব অংশে ঘাম বেশি হয়, সেসব জায়গাতেও একইভাবে ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়। ইচ্ছা করলে এরপর শরীরে ট্যালকম পাউডার লাগানো যেতে পারে। তবে ফিটকিরি ব্যবহারের পর পাউডার না লাগালেও ক্ষতি নেই, দুর্গন্ধ হবে না। ডিওডোর‍্যান্টের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ত্বকে কালচে ছোপ দেখা দিতে পারে। কারও কারও ত্বকে কিছু গোটাও হতে পারে। ফিটকিরি ব্যবহারে এসবের ঝুঁকি নেই। রোজ ব্যবহার করলেও ত্বকে এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।

গোসলের সময়

গোসলের সময় পানিতে খানিকটা ফিটকিরি মিশিয়ে নিতে পারেন। এক বালতি পানির জন্য দুই-তিন টেবিল চামচ ফিটকিরি প্রয়োজন হয়।

চাইলে ফিটকিরির পরিবর্তে গোসলের পানিতে বেকিং সোডাও মেশানো যায়। এ ক্ষেত্রে এক বালতি পানিতে আধা টেবিল চামচ বেকিং সোডা যোগ করতে হবে। বেকিং সোডা দ্রুত কাজ করে। তবে এটির কার্যকারিতা কম সময় থাকে।

দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণের আরও কিছু উপায়

  • রোজ গোসলের সময় অবশ্যই ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
  • ঘেমে গেলে দ্রুত ঘাম মুছে ফেলা উচিত। ভেজা তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে ঘাম মুছে নেওয়া যেতে পারে। সম্ভব হলে ঘামে ভেজা কাপড় বদলে ফেলা ভালো।
  • এক কাপ ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে দুই চা–চামচ ফিটকিরি গুঁড়া মিশিয়ে একটি কৌটায় রেখে দিতে পারেন। বাইরে যাওয়ার সময় ব্যাগে এই কৌটা রাখতে পারেন, প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যাবে।
  • ভেজা মোজা থেকেও প্রচণ্ড দুর্গন্ধ হয়। তাই রোজ এক জোড়া পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করুন। পা শুষ্ক রাখুন। পা ভেজানো হলে ভালোভাবে মুছে শুকনা করে নিয়ে এরপর মোজা পরুন।

সুত্রঃ প্রথম আলো

আরো জানুনঃ

রাতে ঘাম বেশি হওয়ার কারণ ও করণীয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *